সবার ভুল ধারণা ভাঙতে চেয়েছি : মেহজাবীন

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২১

সবার ভুল ধারণা ভাঙতে চেয়েছি : মেহজাবীন

বিনোদন ডেস্ক: নাটকের বাজেট স্বল্পতা আর অসুস্থ পরিবেশের দোহাই দিয়ে অনেকেই যেখানে নাটক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বা বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচতে বিকল্প পথ হিসেবে ওয়েব সিরিজ কিংবা ওয়েব ফিল্মে আশ্রয় খুঁজছেন, সেখানে ক্রমেই দ্যূতি ছড়াচ্ছেন মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয় নৈপুণ্যে দর্শক মনে ঠাই করে নিয়েছেন এই লাক্সতারকা।

প্রচলিত ধারা থেকে একটু বাহিরে গিয়ে কাজ করেন বলেই অনেকেই তাকে ব্যতিক্রমী বলেও আখ্যায়িত করেন! ব্যতিক্রম বলেই অল্প সময়ে সর্বমহলকে একটু বেশিই আকৃষ্ট করে নিয়েছেন। সারাবছরই নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি। বিশেষ নাটক এমনকি একক নাটকের ক্ষেত্রে মেহজাবীন যেন বর্তমান সময়ের অপরিহার্য এক অভিনেত্রীর নাম। শুধু তাই নয়, সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন এ তরুণ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপনচিত্রের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও সমসাময়িক অভিনেত্রীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

২০০৯ সালে ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’ বিজয়ী হয়ে শোবিজে পা রাখা মেহজাবীনের পথচলার এক দশক পেরিয়ে গেলো। দেখতে দেখতেই এই অঙ্গনে কেটে গেলো ১১টি বছর। আগামী ২০২২ সালে তার ক্যারিয়ারের এক যুগ পূর্ণ হবে। এই অঙ্গনে পা মারিয়েই একটু একটু করেই কাজ দিয়ে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। হাঁটতে চান আরও অনেকটা পথ।

তবে তার এই দীর্ঘ পথচলাটা এত সহজও ছিল না। দেশের বাইরে বড় হওয়া আর ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করায় বাংলা তেমন বলতে পারতেন না। যার কারণে প্রথম দিকে অভিনয় করতে গিয়ে নানান সমস্যার মুখে পড়তে হতো তাকে। বাংলা স্ক্রিপ্ট ইংরেজিতে অনুবাদ করে তারপর কাজ করতেন মেহজাবীন। এভাবে অনেকটা সময় চলে যেত তার। পরে পরিচালক, সহশিল্পীদের সহযোগিতায় বাংলা আয়ত্ত করেন।

২০১৭ সালে ‘বড় ছেলে’ নাটক দিয়ে রীতিমত বাজিমাত করে দেন তিনি। এরপর থেকে ছোট পর্দায় একচ্ছত্র অভিনয়ে ছাপিয়ে গেছেন অন্যদের। বিভিন্ন সময়ে অভিনয় নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসিও করেছে। দিনের পর দিনে নানামাত্রিক চরিত্রে অভিনয় তাকে করে তুলেছে পরিপূর্ণ। এই সময়ে তরুণদের মধ্যে অভিনয়ে হয়ে উঠেছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গল্প ও চরিত্র নিয়ে গবেষণা করা, নিজেকে ধারণ করা; এটাই যেন তার বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। রোমান্টিক, সামাজিক, স্যাড, সচেতনতামূলক, পারিবারিকসহ সব ধরণের গল্পে ও চরিত্রে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। নিজেকে গড়ে তুলেছেন পানির পাত্রের মত। তাকে যেই চরিত্রই দেওয়া হোক না কেন, সেটাতে পারদর্শিতার ছাপ রাখেনই তিনি। সবার হাসির জবাব মুখে না দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজেই দিয়ে দিয়েছেন এই তরুণী।

এই সময়ে মেহজাবীন মানেই প্রযোজক, পরিচালকদের ভরসা, দর্শকদের প্রিয় মুখ। নিজের অপূর্ণতাগুলোকে ক্রমেই পূর্ণতা দিয়েছেন নিজেকে ছন্দে ফেলে। অভিনয়গুণেই হয়ে উঠেছেন সুপারস্টার। শোবিজের আকাশে ছোট পর্দার বড় তারা। সেদিক থেকে বলা যায়, এখন যেন পাখা মেলে উড়ছেন এই অভিনেত্রী।

উচ্ছ্বসিত মেহজাবীন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ভাবলে অবাক হই, মনে হয় এই তো মাত্র কয়েকদিন আগের কথা। আমার আজকের অবস্থানের পেছনে আমার বাবা মায়ের সবচেয়ে বেশি। কারণ আমার তারা আমাকে বিভিন্ন সময়ে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। আমার মা আমার পাশে থেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, এগিয়ে যাবার পথে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও অভিনয়েও নিয়মিত থাকবো, এটা আগে ভাবিনি। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আমি স্টিলেই ফোকাস দিয়েছি বেশি। আমার কাছে মনে হতো অভিনয় থেকে মডেলিংটা সহজ; তাই এখানেই থাকি। কিন্তু ’১৩ এর পর থেকে অভিনয়েই বেশি মনোযোগ দেই। তখনও যখন অভিনয় করতাম, কত কথা শুনতাম মানুষের কাছে! অনেকেই বলতো, মডেলরা অভিনেতা বা অভিনেত্রী হতে পারে না।

আমার যেহেতু বাংলা বলতে অনেক কষ্ট হতো সেটা কাটিয়ে উঠতেও সময় লেগেছে। যখন আমার স্পিচ স্পষ্ট হয়ে যায়, ফ্লুয়েন্টলি বাংলা বলতে শিখে যাই তখন অভিনয়ের দিকেই ফোকাস বেশি দিয়েছি। তখন নিজের মধ্যে কনফিডেন্ট বেড়ে গেল অনেকটা। তখন নিজেকে ঐ জায়গাটার জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করি এই ভেবে যে আমি অভিনয়েই থাকবো। আর আমি এটা প্রমাণ করতে চেয়েছি যে, মডেলরাও আসলে অভিনয় করতে পারে; যদি তাদের মধ্যে অভিনয় সত্ত্বাটা থাকে। সবারই একটা ধারণা থাকে যে, মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলে শতভাগ অভিনেতা বা অভিনেত্রী হওয়া সম্ভব না। আমি সেটাই ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছি এবং পেরেছিও। তবে এখনো যে আমার উচ্চারণে সমস্যা হয় না, তা না; তবুও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আমি সময়ের সাথে সাথে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আর অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে, মূল্যায়ন আছে। হয়তো সব কাজ সবার ভালো লাগে না, আবার কিছু কাজ ভালো লাগে। কিন্তু সবসময় ভালো কিছু করার চেষ্টার মধ্যেই থাকি।’

মেহজাবীনকে সব নাটকে শুধু কান্না করতেই দেখা যায়। এরকম একটা কথা রটে গিয়েছে সবখানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এই বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন?

মেহজাবীনের স্পষ্ট উত্তর, ‘আমি সবসময় একটা গল্প যখন হাতে নেই, সেটা যেমনই হোক না কেন; সেই গল্পটাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করি। আমি কখনোই ভাবি না কাঁদবো নাকি হাসবো! অন্য নাটকে কাঁদছি, এখানে কাঁদবো না! আমি শুধু গল্পে আর চরিত্রে নিজেকে ধারণ করে গিয়েছি। গল্পে যেটা চেয়েছে আমি শুধু সেটা পারফর্ম করেছি বা করি। গল্পের প্রয়োজনে যখন যা করা দরকার, সেটা করতেই হবে। তা নাহলে তো কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ, কেউ যদি বলে মেহজাবীন ওই নাটকে আই লাভিউ বলেছে, এই নাটকেও আই লাভিউ বলেছে; এটা তো মিলে গেছে! এটা তো হতে পারে না আসলে। সো, আমি এগুলা কখনোই মাথায় নেই না। গল্পের প্রয়োজনে হাসি, কান্না; যা করা প্রয়োজন আমি সেটাই করার চেষ্টা করি।’

যোগ করে তিনি বলেন, ‘দর্শক সমালোচনা যখন করে সেই ফিডব্যাকটা আমি অবশ্যই নেই। কিন্তু আমার তো আমার স্ক্রিপ্টটাকে শতভাগ পূর্ণতা দিতে হবে। কেউ আমার কাছ থেকে কমেডি কাজ চায়, আবার কেউ সিরিয়াস কাজ চায়! তাদের মধ্যে থেকেই আলাদা হয়ে এরকম মন্তব্যগুলো করে থাকে। কিন্তু আমার তো কয়েকজনকে নিয়ে ভাবলে হবে না। আমার সবাইকে নিয়েই ভাবতে হয়। মোট কথা, আমি স্ক্রিপ্টের উপর পারফর্ম করি। স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনেই অতিরঞ্জিত কিছু করি, ওভার অ্যাক্টিং করলেও সেটা গল্পের প্রয়োজনেই। সুতরাং আমি গল্পের কাজটাই করি, সেটা যেমনই হোক।’

এদিকে মেহজাবীন নতুন বছরটা শুরু করেছেন একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে। এরপর অংশ নিয়েছেন ভালোবাসার দিবসের বেশ কিছু নাটকে। মুক্তি প্রতীক্ষিত তার নাটকের তালিকায় রয়েছে ভাইরাল গার্ল, শিল্পী, লতা অডিও ইত্যাদি।