লকডাউনে সখীপুরে আম নিয়ে বিপাকে চাষিরা

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২১

লকডাউনে সখীপুরে আম নিয়ে বিপাকে চাষিরা

 

এম জাকির হোসেনঃ

করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশের মত টাঙ্গাইলের সখীপুরেও ১ জুলাই থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। লকডাউনে আম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। অন্য আমের তুলনায় আ¤্রপালি আম নিয়ে বেশি চিন্তিত। তারা জানিয়েছেন, পাইকার ও ক্রেতারা আসতে না পারায় এবার এ আমের দাম অনেকটাই কম। আবার লকডাউন খোলার অপেক্ষায় থাকলে গাছেই পচে নষ্ট হবে আম। এছাড়াও এমনিতেই আ¤্রপালি আম গাছেই অনেকটা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই কম দাম জেনেও বাগান থেকে আম পেড়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হলেও নায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। আবার লোকসানের কবলে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমের যেন ক্রেতাই মিলছে না। প্রতিবার সর্বোচ্চ চাহিদা আ¤্রপালির থাকলেও এবার তেমন বিক্রি নেই। লকডাউনের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দোকান খুলতে পারা যায়। আর সে সময় তেমন ক্রেতা মেলেনা। সব মিলেয়ে ব্যবসায় ধস নেমে আসছে। এবার মাথায় হাত পড়েছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

 

উপজেলার পাথারপুর গ্রামের আম চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার আম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ, কীটনাশক খরচ কিছুই উঠবে না। কিন্তু এই সারা বছর বাগানের জমিতে অন্য ফসল চাষ করলেও এর চেয়ে বেশি টাকা আসত। তবে আমের দামে চাষি ও ব্যবসায়ীরা হতাশ হলেও পছন্দের আম কম দামে কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। কালিদাস গ্রামের আম চাষি মাছুমম আল মামুন জানান, তিনি প্রায় ৫ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন।ফলনও বেশ ভালো হয়েছে । অন্যবার এই সময় পাইকারদের আমের ব্যপক চাহিদা থাকে এবং ব্যবসায়ীরা টানাটানি শুরু করতেন। এবার পাইকার দূরের কথা স্থানীয় ভাবেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। করোনার কারনে দূর থেকে পাইকার না আসায় আমের বাজার একদম কম। বর্তমানে এক মণ আ¤্রপালি আম বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে। এর আগে কখনোই ২২০০ টাকার নিচে আ¤্রপালি আম বিক্রি হয়নি। আমাদের সখীপুরে যদি আম সংরক্ষনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয় তবে কৃষক ক্ষতি গ্রস্থ হবে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম চাষিরা বলছেন, স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা তাদের আম কিনছে না। রাজশাহী অঞ্চলের আম আরও কমে কিনে এনে চরা দামে বিক্রি করছেন তারা। এতে করে আমাদের এলাকার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এদিকে ক্রেতা কিংবা ব্যাপারী না থাকায় আমের বাজারে কোনো ধরনের হাঁকডাকই শোনা যায় না। কঠোর লকডাউনের কারণেই বাজারে ক্রেতা নেই। ঢাকার পাইকাররা আম কেনার সাহস পাচ্ছেন না।

 

সখীপুর উপজেলায় আমবাগান রয়েছে ২৪০ হেক্টর জমিতে। বিভিন্ন জেলায় সখীপুরের আমের আলাদা সুনাম রয়েছে। এ উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হলেও ‘লকডাউন আতঙ্কে’ বাজারে ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় বাজারে এবার আমের দাম অর্ধেকেরও কম।