সখীপুরে রেকর্ড জমিতে অবৈধভাবে গাছ লাগালেন স্থানীয় বন কর্মকর্তারা

প্রকাশিত: ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২১

সখীপুরে রেকর্ড জমিতে অবৈধভাবে গাছ লাগালেন স্থানীয় বন কর্মকর্তারা

 

এম জাকির হোসেনঃ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শতবছরের ব্যক্তিমালিকানা ও ভোগদখলীয় আবাদি জমির কলা বাগানে আকাশমণি চারা লাগিয়েছে স্থানীয় বন কর্মকর্তারা। উপজেলার কালমেঘা মৌজার ১৮.৫৬ একরের প্রায় চার একর জমিতে এই চারা লাগিয়েছ। এ ঘটনায় বন বিভাগের নামে মামলা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

 

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালমেঘা মৌজার ৯১ নম্বর দাগের ২৯ একর জমি সিএস রেকর্ড জমিদারদের নামে। সেই জমি থেকে ১৬.৪০ একর জমির পত্তনমূলে আব্দুর রাজ্জাক গং মালিক হয়। দখলকৃত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসে তারা। পরে তাদের নামে এস.এ রেকর্ড হয়। এবং পরবর্তী সময়ে ওই জমি তাদের নামে নতুন রেকর্ড হলে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা দিয়ে আসে আব্দুর রাজ্জাক গং। এ ছাড়া এস.এ ৪০৫ নম্বর দাগের ২.১৬ একর প্রায় ৯০ বছরের দখলীয় ওই জমিতে কলাবাগান করা হয়েছে। সেই বাগানে গত ১৯ জুলাই স্থানীয় কালমেঘা বিট কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে প্রায় চার একর জমিতে আকাশমণির চারা লাগায়। এ ঘটনায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা টাঙ্গাইল বন বিভাগের নামে গত ১৯ জুলাই আদালতে মামলা দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক গং। এছাড়া এই বছরেই ওই জমির উপর দিয়ে একটি গ্যাস লাইন গিয়েছে। জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক গংদের ওই গ্যাস লাইনের জমি অধিগ্রহণের টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সখীপুরে প্রায় ৪০ বছর আগে বনায়ন শুরু হয়েছে। আমরা তখন থেকে চাষাবাদ ও বাড়ি ঘর নির্মাণ করে আসছি। কোনদিন কোন ফরেস্ট আসলো না। স¤প্রতি গ্যাস লাইন থেকে কিছু টাকা পেয়েছি আমরা। সেই টাকা তুছরুপ করতে স্থানীয় কয়েকজন দুষ্ট লোকের ইন্দনে অহেতুক সেই জমিতে স্থানীয় বন কর্মকর্তারা আকস্মিক ভাবে বনায়ন করতে আসে বলে জানায় একাধিক ভুক্তভোগী।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমদের শতবছের পৈত্রিক ও দাদার ভোগদখলীয় খাজনা দেয়া জমিতে জোরপূর্বক বনায়ন করছে স্থানীয় বনকর্মকর্তারা। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছি।

উপজেলা ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রেকর্ড জমিতে কৃষকের কলা বাগনে অবৈধভাবে পরিবেশ বান্ধব নয় এমন গাছ রোপণ করা ঠিক হয়নি বন বিভাগের।

 

কালমেঘা বিট কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, বনের গেজেট ভুক্ত তিন বা সাড়ে তিন একর জমিতে বনায়নের চারা লাগিয়েছি। ওনারা যদি আইনের প্রক্রিয়ায় জমি পায় তাহলে বন থাকবে না। তবে ৯১ নম্বর দাগে বনবিভাগের ১১.৮৫ একর জমি আছে।

 

হাতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আলাল খান বলেন, মামলার বিষয়ে কিছুই জানিনা। সার্ভেয়ার দিয়ে জমি ডিমার্গেশন করে আমাদের জমিতে বনায়ন করেছি।