মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ২:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২১

মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু

গতকাল রোববার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে মেট্রো রেলের পরীক্ষামূলক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের -সংগ্রাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,জাগো সখীপুর : দেশের প্রথম মেট্রোরেল পরীক্ষমূলক যাত্রা শুরু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি ডিপোর ভায়াডাক্টে প্রথম মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল উদ্বোধন করেন।
সূত্র জানায়, মেট্রোরেল তরুণ প্রজন্মের ড্রিম প্রজেক্ট। আগামী বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতু প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া আগামী বছর চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, এটি একটি মাইলফলক। মেট্রোরেল এখন আর স্বপ্ন নয়। মোট ১৬টি মেট্রোরেল স্টেশনের মধ্যে প্রথম নয়টি মেট্রোরেল স্টেশনের কনকোর্স, প্রথম পাঁচটি মেট্রোরেল স্টেশনের ফ্লাটফর্ম ও প্রথম চারটি মেট্রোরেল স্টেশনের স্টিল রুফ স্ট্রাকচার এবং তিনটি মেট্রোরেল স্টেশনের রুফ শিটিংয়ের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট মেট্রোরেল স্টেশনসমূহের নির্মাণ কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে আছে।’

ডিপোর অভ্যন্তরে রেললাইন স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ভায়াডাক্টের ওপর মেইন লাইনে ১৭ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম পাঁচটি মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের উপযুক্ত করে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি স্থাপন ও সফলভাবে টেস্ট করা হয়েছে। ভায়াডাক্টের ওপর ১৭ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওভারহেড কেটেনারি সিস্টেম (ওসিএস) ওয়্যারিং সম্পন্ন হয়েছে।
ছয় কোচ বিশিষ্ট চারটি মেট্রোরেল সেট ইতোমধ্যে ঢাকার উত্তরা ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। ক্রমান্বয়ে অবশিষ্ট মেট্রোরেল সেট বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। গত ১১ মে ডিপোর অভ্যন্তরে প্রথম মেট্রোরেল সেটের ফাংশনাল টেস্টের সূচনা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে প্রথম দুটি মেট্রোরেল সেটের ফাংশনাল টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ প্রথম মেট্রোরেল সেটের ভায়াডাক্টের ওপর পারফরমেন্স টেস্টের সূচনা হয়েছে।
এই টেস্ট সার্বিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাসের প্রয়োজন হবে। পারফরমেন্স টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট করা হবে। ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট শেষে ও বাণিজ্যিক চলাচল শুরুর পূর্বে প্রায় পাঁচ মাসের যাত্রীবিহীন ট্রায়াল রান করা হবে।
অবশ্য, নগরবাসীকে এ মেট্রো ট্রেনে চড়তে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কাজে দেরি হয়ে যাওয়ায়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কিছু পরিকল্পনা সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। এ অবস্থায়, অন্তত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইনটি আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করতে চাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দেশের প্রথম মেট্রোরেল ব্যবস্থা মাস  র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৬ বা এমআরটি-৬ নির্মিত হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে।
কাজ সম্পন্ন হলে, ১৬টি স্টেশনের মেট্রোরেল ঘণ্টায় ৬০ হাজার জনকে বহন করতে সক্ষম হবে। ফলে উত্তরা থেকে মতিঝিল যাওয়ার সময় কমে প্রায় ৪০ মিনিট হয়ে যাবে। বর্তমানে এ পথ পাড়ি দিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পটির সামগ্রিক অগ্রগতি ছিল ৬৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রথম ধাপে অগ্রগতি ছিল ৮৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর দ্বিতীয় ধাপে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ৬৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্রকল্পের মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুসারে, ট্র্যাক ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং গাড়ি কেনায় ৬০ দশমিক ৬৬ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।
মেট্রো ট্রেনের প্রথম সেট গত ২১ এপ্রিল ঢাকায় এবং এর দুদিন পর ডিপোতে পৌঁছায়। এসব ট্রেনের প্রতিটিতে ছয়টি গাড়ি রয়েছে, যা একবারে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩০৮ জনকে বহন করতে পারে। এগুলো জাপানের কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেনটি গত ১১ মে রাজধানীর দিয়াবাড়ি ডিপোর ভেতর পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে দেশের সব ট্রেন ডিজেল দিয়ে চলে।
সেদিন থেকে কর্তৃপক্ষ পারফরম্যান্স পরীক্ষা শুরু করার পর ডিপোর ভেতর এমন পরীক্ষা চলতে থাকে। এ ছাড়া, গতি পরীক্ষার জন্য একটি টেস্ট ট্র্যাকেও ট্রেনটি চালানো হয়।
এরপর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ উত্তরা, পল্লবী এবং মিরপুর-১১ তে অবস্থিত প্রথম পাঁচটি স্টেশনকে পারফরম্যান্স পরীক্ষা চালানোর জন্য প্রস্তুত করতে বলে।
তবে কর্মকর্তারা  জানিয়েছেন, পল্লবী স্টেশনে টার্নআউট পয়েন্ট থাকায়, পারফরম্যান্স পরীক্ষা করা হবে আসলে প্রথম চারটি স্টেশন নিয়ে। মিরপুর-১১ স্টেশনটিও প্রস্তুত করার কারণ হচ্ছে, পল্লবী স্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেনটি ওই স্টেশনের পাওয়ার সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ পাবে। ট্রেনটি চারটি স্টেশনের মধ্যে ধীরগতিতে চলবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
প্রকল্পটি আটটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এর মধ্যে, প্যাকেজ তিন ও চার ব্যবহার করা হচ্ছে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট নির্মাণের জন্য। এ ছাড়া, প্যাকেজ সাত বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার রাখার জন্য এবং প্যাকেজ আট রোলিং স্টক (রেল কোচ) ও ডিপো সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ চারটি প্যাকেজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পারফরম্যান্স পরীক্ষা সফল করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২৪টি মেট্রো ট্রেনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারটি দেশে পৌঁছেছে।