টাঙ্গাইল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর

প্রকাশিত: ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

টাঙ্গাইল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্রী উত্ত্যক্ত, ছাত্রদের মারধরসহ প্রবেশে বাঁধা দেয়ায় টাঙ্গাইল মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে বর্হিরাগতরা। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। হামলায় অধ্যক্ষ ভবনের জানালার কাঁচ, একটি স্যান্ডফ্যান, একাধিক প্লাস্টিক চেয়ার ভাংচুর করাসহ কলেজ প্রহরীকে মারধর ও শিক্ষকদের হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতাসহ শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষীর্থীরাসহ সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ ছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর পুনরায় চালু হওয়ার পর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি কলেজ ড্রেস ব্যতিত চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এর ফলে ড্রেস ছাড়াই কলেজে আসছে ছাত্র-ছাত্রীরা। এ সুযোগ নিয়ে কলেজে বৃদ্ধি পেয়েছে বর্হিরাগতদের উপদ্রব। ওই বর্হিরাগতরা রীতিমত কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করাসহ ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত আর ছাত্রদের মারধর করছে। কলেজ গেইটে প্রহরী থাকলেও তার বাঁধা মানে না তারা। এ কারণে কলেজ শুরুর দিন থেকে অদ্যাবধি ছাত্রী উত্ত্যক্ত, ছাত্র মারধরসহ একাধিক শিক্ষকের সাথে আপত্তিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে ওই বর্হিরাগতরা। এতে অরক্ষিত হয়ে পরেছে কলেজ প্রাঙ্গণ। অনাকাঙ্খিত এ সকল ঘটনার কারণে নিরাপত্তাহীনতাসহ চরম শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষীর্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। কলেজ প্রাঙ্গণে বর্হিরাগতদের প্রবেশ বন্ধসহ স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক কলেজ শিক্ষক জানান, আজ সকালে কলেজের বাণিজ্য বিভাগ প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে বর্হিরাগতরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে মারধরের শিকার ওই ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে আনা হয়। এ সময় ওই ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় জড়িত কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্হিরাগতদের নেতা বায়জিদ বোস্তামী উপস্থিত হয় অধ্যক্ষের কক্ষে। সে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে বলে জানায়। এ কারণে তাকে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বাইরে যাওয়ার অনুরোধ জানান শিক্ষকরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে বর্হিরাগতদের নিয়ে অধ্যক্ষ ভবনের জানালার কাঁচ, একটি স্যান্ডফ্যান, একাধিক প্লাস্টিক চেয়ার ভাংচুর করাসহ কলেজ প্রহরীকে মারধর করতে থাকে। এ সময় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এস এম আউয়াল তাদের বাঁধা দিতে গেলে বায়জিদ বোস্তামীসহ ওই বর্হিরাগতরা তার উপরও ক্ষুব্ধ হয়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক দেখে ওই শিক্ষক কলেজের কক্ষে প্রবেশ করেন। এতে ক্ষ্যান্ত না হয়ে বর্হিরাগতরা ওই শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের গালিগালাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ থানা পুলিশকে খবর দেন। এরই মধ্যে কলেজ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে হামলাকারি ওই বর্হিরাগতরা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ, ১২ সেপ্টেম্বর কলেজের কক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটায় বর্হিরাগতদের আরেকটি গ্রুপ। তবে মিমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা। গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) কলেজের তুহিন স্যারের সাথেও বাকবিতন্ডায় জড়ায় ওই বর্হিরাগতরা। আজ আবার কলেজ ছাত্রকে মারধর, অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুরসহ শিক্ষকদের হুমকি দেয়ায় চরম হতাশা আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা।

 

মারধরের শিকার প্রহরী আব্দুল মান্নান বলেন, হাতুড়ি দিয়ে ছাত্রকে পেটানোর ঘটনায় অধ্যক্ষের কক্ষে মিটিং চলছিল। ওই মিটিংয়ে চলাকালে ১৫-২০জন বর্হিরাগত যুবককে নিয়ে কলেজে আসে বায়জিদ বোস্তামী। সে অধ্যক্ষের কক্ষে গেলেও কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল তার সাথে আসা বর্হিরাগতরা। এ সময় ওই বর্হিরাগতদের একজন আমার জন্য রাখা প্রহরী চেয়ারে বসে। কলেজের শিক্ষকরা যাতায়াত করার কারণে আমি তাকে ওই চেয়ারে বসতে বারন করি। বারন করার কারণে ওই যুবক আমাকে বলে আমি কি শিক্ষকদের চেয়ে ছোট বলে আমাকে মারধর করতে শুরু করে। এ সময় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আউয়াল স্যার এগিয়ে আসলে বর্হিরাগতরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এ সময় তারা একটি স্যান্ডফ্যান, একাধিক প্লাস্টিক চেয়ারসহ অধ্যক্ষ কক্ষে জানালার কাঁচ ভাংচুর করে।

 

কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এস এম আউয়াল বলেন, আমি কলেজের বাণিজ্য বিভাগ প্রথম বর্ষের ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর কারণ জানতে ওই ছাত্রকে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে আনি। এ কারণে ওই ঘটনায় জড়িত কলেজের প্রাক্তন ছাত্র বায়েজিত আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়। এ কারণে সে পরিকল্পিত ভাবে ও বর্হিরাগতদের নিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

 

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কলেক শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম।

 

উপাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম উজ্জল বলেন, হামলার বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ড. আতাউল গণি স্যারকে অবগত করা হয়েছে।

 

কলেজ অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত প্রাক্তন ছাত্র বায়েজিতের নাম উল্লেখসহ বর্হিরাগত একাধিকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

 

টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ওসি (নিরস্ত্র) সালাউদ্দিন বলেন, সংবাদ পেয়ে আমরা কলেজ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ড. আতাউল গণি’র মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।